সাতক্ষীরা পৌরসভা, সাতক্ষীরা স্থানীয় সরকার বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
সাতক্ষীরা পৌরসভার পটভূমি

সাতক্ষীরা পৌরসভা দক্ষিণ বাংলার একটি অন্যতম প্রাচীনতম পৌরসভা। 
সাতক্ষীরা জেলা সদরে অবস্থিত সাতক্ষীরা পৌরসভার উত্তরে লাবসা ইউনিয়ন, দক্ষিণে ফিংড়ী ইউনিয়ন, পূর্বে ধলিহর ব্রক্ষ্মরাজপুর ইউনিয়ন এবং পশ্চিমে আলিপুর ইউনিয়ন অবস্থিত। ১৮৫০ সালে পৌর আইন পাস হওয়ার পর ১৮৬৯ সনে ৩১.১০ বঃ কিঃ আয়তন বিশিষ্ট সাতক্ষীরা পৌরসভাটি খুলনা বিভাগের প্রথম পৌরসভা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ‘‘ গ ’’ শ্রেণীভূক্ত পৌরসভা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৯৮ সনে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হয়। কাটিয়া, সাতক্ষীরা, পলাশপোল, রামদেবপুর, সুলতানপুর, দহাকুলা ও রসুলপুর এই ০৭টি মৌজা এবং ০৯টি ওয়ার্ডের ৪০ টি গ্রাম সমন্বয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভা গঠিত। সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় অবস্থানকারী তৎকালীন জমিদার প্রাণনাথ রায় চৌধুরীর প্রচেষ্টায় ১৮৬৯ সালে সাতক্ষীরা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি ছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রথম সভাপতি। ১৮৬৯ সন থেকে ১৮৯৪ সন পর্যন্ত তিনি উক্ত পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। পৌরবাসীর নাগরিক জীবন স্বাচ্ছন্দ্যময় করার লক্ষ্যে তিনি সড়ক, নর্দমা, পুকুর, দীঘি, বিদ্যালয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে জনাব গীর্জানাথ রায় চৌধুরী, জনাব হরিনাথ মজুমদার, জনাব শৈলজানাথ রায় চৌধুরী, জনাব যতীন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী, জনাব দেবেন্দ্রনাথ ব্যাণার্জী, জনাব নিরথ চন্দ্র চ্যাটার্জী, জনাব লীলাপদ মজুমদার, জনাব মোঃ আব্দুল জব্বার খান, জনাব ভবেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী, জনাব মোঃ আব্দুল গফুর, জনাব নূর আহম্মদ খান, জনাব মোঃ মোজাহার আলী, জনাব মোঃ আব্দুল জলিল, জনাব শেখ আশরাফুল হক ব্যক্তিবর্গ সাতক্ষীরা পৌরসভার চেয়ারম্যান/ মেয়র হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে জনাব মোঃ আব্দুল জলিল পুনঃ নির্বাচিত হয়ে গত ১৫ ফেব্র“য়ারি, ২০১১ তারিখ হতে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 
সাতক্ষীরা পৌর এলাকার অভ্যন্তরে কোন নদী না থাকলেও প্রাণসায়ের খাল শহরের মধ্যে সৌন্দর্যবর্ধক হিসেবে বিরাজমান। এই খালটি মরিচ্চাপ নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে বেতনা নদীতে গিয়ে পড়েছে। জানা যায় প্রাণনাথ রায় চৌধুরী নিজ উদ্যোগে খালটি খনন করে বেতনা নদীর সাথে মরিচচাপ নদীর সংযোগ ঘটিয়ে জলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পৌর এলাকার মধ্যে খালের দৈর্ঘ্য ৮.৫০ কিঃ মিঃ এবং গড় প্রস্থ ২১.০০ মিঃ। যদিও বর্তমানে খালটিতে জোয়ার-ভাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং ময়লা আবর্জনা ফেলার ফলে অনেক স্থানে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। খালের গভীরতা কমে যাওয়ায় খালটিতে আর জোয়ার-ভাটা খেলে না। যার জন্য খালের নাব্যতা হারিয়ে গিয়েছে। তবে আশার কথা মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় এই প্রাণসায়ের খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বড় বড় ড্রেনের মাধ্যমে বিপরীতমুখী প্রবাহের মাধ্যমে শহরের নিম্নাঞ্চলগুলি তলিয়ে দিচ্ছে। সাতক্ষীরা পৌর এলাকাটি পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে বেশ কিছুটা উঁচু বিধায় বন্যামুক্ত। তবে ২০০০ সনে উজানের ঢলে একবার সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছিল। সাতক্ষীরা পৌর এলাকা থেকে রাজধানী ঢাকা, বিভাগীয় শহর খুলনা, আন্তর্জাতিক স্থল বন্দর বেনাপোল, স্থলবন্দর ভোমরা, সুন্দরবন সংলগ্ন থানা শ্যামনগর সাথে সুন্দর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান। পূর্বে শহরের সঙ্গে নদী পথের ব্যবস্থা প্রচলন ছিল। ব্রিটিশ আমলে এই প্রাণসায়ের খাল দিয়ে অত্র এলাকার জমিদার জনাব প্রাণনাথ রায় চৌধূরীসহ ব্যবসায়ীগন চলাচল করতেন। তৎকালীন পৌর দীঘি হতে পানি তুলে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে বিশেষ ব্যবস্থায় পৌরবাসীকে সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে আরও দুইটি পানির ট্যাঙ্কি নির্মিত হয়েছে, যার মাধ্যমে পৌরবাসীর মধ্যে আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। সেই আমলের নামকরা জলাধারটি(পৌরদীঘি) এখনো বিদ্যমান আছে। বর্তমানে সাতক্ষীরা পৌরসভার লোকসংখ্যা প্রায় ১,৪৯,৫০১ জন। অত্র পৌরসভায় কাঁচাবাজার ০৫টি, পৌর মার্কেট ০৩টি, সরকারি কলেজ ০২টি, বেসরকারি কলেজ ০৫টি, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ০২টি, বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ১০টি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩৪টি, আধুনিক হাসপাতাল ০১টি, মেডিকেল কলেজ ০১টি, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ০১টি, যক্ষা হাসপাতাল ০১টি, পশু হাসপাতাল ০১টি। এছাড়া পৌর জলাধারের পাশে শিল্পকলা একাডেমী, ০১টি বেসরকারী গণগ্রন্থাগার এবং সরকারী গণগ্রন্থাগার নির্মিত হয়েছে। শহীদ আঃ রাজ্জাকপার্ক এবং তার পাশে কোমলমতি শিশুদের বিনোদনের জন্য নূতন শিশু পার্ক নির্মিত হয়েছে।